ফাস্ট ফুডের নাম উঠলেই যে কয়টি খাবার আগে মনে আসে, তার মধ্যে বার্গার অন্যতম। ১৮৮০–৯০ সালের দিকে দুই পিস বান আর ভেতরে প্যাটি দিয়ে শুরু হওয়া বার্গার এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফাস্ট ফুডগুলোর একটি। আর বাংলাদেশে বার্গারপ্রেমীদের প্রিয় ঠিকানার তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবে চিলক্সের নাম।
এক দশক আগেও দেশে ফাস্ট ফুড মানে ছিল কেবল বিদেশি কিছু ব্র্যান্ডের দোকান। সেই সময়েই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যাম্পাসের সামনে এক কোণে ছোট্ট ফুড কার্ট নিয়ে হাজির হয় তিন তরুণ—মারুফ, প্রান্ত ও ফাইজ। ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবসে, শুরু হয় তাদের ব্র্যান্ড ‘চিলক্স’–এর যাত্রা।
চিলক্সের ভাবনা এসেছিল প্রান্তর মাথা থেকে। স্কুলজীবনের বন্ধু মারুফকে জানাতেই দুজনে মিলে শুরু করেন উদ্যোগটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচয় হওয়া ফাইজও যুক্ত হন। ফাইজ বলেন, “শুরুতে বড় কিছু করার পরিকল্পনা ছিল না। আমরা শুধু এমন একটা জায়গা চেয়েছিলাম যেখানে অফিস শেষে বন্ধুরা একসঙ্গে সময় কাটাতে পারে।”
সেই আড্ডার জায়গা আজ দেশের জনপ্রিয় চেইন রেস্তোরাঁ। সময়ের সঙ্গে ব্যবসা বড় হতে থাকে, ব্যস্ততা বাড়ে। পরে ফাইজ ও মারুফ পারিবারিক কারণে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে প্রান্ত একাই চিলক্সকে এগিয়ে নেন আগের মতো নিষ্ঠা ও ভালোবাসা দিয়ে।
শুরুর দিকে চিলক্সের মেনু ছিল একেবারেই ছোট—বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর কিছু শেক। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ছিলেন প্রধান ক্রেতা। কম দামে মানসম্পন্ন খাবার আর আড্ডার উষ্ণ পরিবেশ দ্রুত জনপ্রিয়তা এনে দেয় চিলক্সকে।
চিলক্সের দ্রুত সাফল্যের আরেকটি কারণ ছিল তাদের বিশেষ সস। প্রচলিত আমেরিকান বার্গারে যেখানে সস কম থাকে, সেখানে চিলক্স যুক্ত করে সসের ভরপুর স্বাদ। এই ব্যতিক্রমই ক্রেতাদের মন জয় করে নেয়।
২০১৬ সালের শেষ দিকে ফুড কার্টটি বন্ধ হলেও বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি গ্রাহকদের। পরের বছর বাংলা নববর্ষে মহাখালীতে খুলে যায় চিলক্সের প্রথম আউটলেট। সাড়া এতটাই ভালো ছিল যে অল্প সময়েই ধানমন্ডিতে চালু হয় দ্বিতীয় শাখা। তখন থেকেই চিলক্সের লক্ষ্য ছিল—ছাত্রছাত্রীদের জন্য কম দামে ভালো মানের ফাস্ট ফুড সরবরাহ করা।
এখন সেই স্বপ্ন পেরিয়েছে রাজধানীর গণ্ডি। বর্তমানে দেশে চিলক্সের ২২টি আউটলেট রয়েছে—ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও বগুড়ায়।
এখন শুধু বার্গার নয়, চিলক্সের মেনুতে আছে ফিস টটস, নাগা ড্রামস, রাইস বোল, ডেজার্ট, মুরগির নানা পদ এবং সেই আইকনিক সস। আগামী দিনে আরও নতুন স্বাদের চমকও নিয়ে আসছে তারা।
মহাখালীর ছোট্ট একটি ফুড কার্ট থেকে শুরু করে আজ দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছে গেছে চিলক্সের নাম। লাল লোগো আর হানি মাস্টার্ড সসের জাদুতে চিলক্স এখন কেবল একটি রেস্তোরাঁ নয়—এটি হয়ে উঠেছে তরুণদের প্রিয় ব্র্যান্ড, ভালোবাসা ও স্বাদের এক প্রতীক।
আরও পড়ুন: এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিনে কনকচাঁপার আবেগভরা শ্রদ্ধা
